রেইনকোর্ট গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর। রেইনকোর্ট গল্পের বোর্ড প্রশ্ন।

১. কলিমদ্দি দফাদারের বোর্ড অফিস শীতলক্ষ্যার তীরে বাজারে।  নদীর এপার ওপার বেশ কিছু বড় বড়  কলকারখানা।  এগুলো শাসনের সুবিধার্থে  একদল খান সেনা বাজারের হাই স্কুলটিকে  ছাউনি  করে নিয়েছে। কোথা হতে কোন পথে কেমন করে মুক্তিফৌজ আসে আক্রমণ করে এবং প্রতিআক্রমণ করলে কোথায় হাওয়া হয়ে যায়, খান সেনারা তার রহস্য ভেদ করতে পারে না।

ক. ‘বর্ষাকালেই তো জুৎ’ কথাটি কে বলেছেন?

খ.  ‘রাশিয়ার ছিল জেনারেল উইন্টার, আমাদের জেনারেল মনসুন’ ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের শেষাংশের বক্তব্য ‘রেইনকোট’ গল্পের কোন বিষয়টি নির্দেশ করে  ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকটিতে ‘রেইনকোট, গল্পের আংশিক বক্তব্য প্রকাশ হয়েছে তোমার মতামত আলোচনা করো ।

উত্তর

ক. ‘বর্ষাকালেই তো জুৎ’ কথাটি বলেছিল ছদ্দবেশী কুলি।

খ. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রচণ্ড শীত রুশ বাহিনীর পক্ষে যেমন অনুকূল হয়েছিল তেমনি বর্ষা মৌসুমও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুকূল ছিল এই বিষয়টি বোঝাতে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার বাহিনী প্রচণ্ড শীতের কারণে রুশ বাহিনী হাতে পর্যুদস্ত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রবল বর্ষায় তেমনি বিপদজনক পরিস্থিতিতে পড়ে ছিল পাকিস্তানী বাহিনী।  উক্তিটির মাধ্যমে বিষয়টির কথাই বলা হয়েছে । কুলির ছদ্মবেশে কলেজে আলমারি দিতে এসে এই গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বলেছিলেন ‘বর্ষাকালেই তো জুৎ’। নুরুল হুদার মনে হয়,  এ কথার মধ্য দিয়ে ছেলেটি যেন আলোচ্য  কথাটি বলতে চেয়েছে।  নদীমাতৃক বাংলাদেশের ছেলেরা বর্ষার সঙ্গে পরিচিত থাকলেও পাকিস্তানি বাহিনীর তা ছিল না।  ফলে তারা মুক্তিবাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত হয় বর্ষার কারণে।

রেইনকোর্ট গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
রেইনকোর্ট গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

গ.  উদ্দীপকের শেষাংশের বক্তব্য ‘রেনকোট’ গল্পের মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা আক্রমণে দিকটি নির্দেশ করে।

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য অনেক বীর সন্তান জীবন দিয়েছেন। তাদের সেই ত্যাগের কথা বাঙালি ভুলতে পারবে না। তাদের ঋণ আমরা কোনদিন শোধ করতে পারব না।

উদ্দীপকে নদী পার হয়ে মুক্তিবাহিনীর হঠাৎ আক্রমণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।  পাকিস্তানি সেনাদের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে তারা হুটহাট আক্রমণ করে । কেমন করে এ কাজ করে পাকিস্তানি সেনারা তা বুঝতে পারেনা। ‘রেইনকোট’ গল্পের মুক্তিযোদ্ধাদের নদী পার হয়ে আসা এবং পাকিস্তানী ক্যাম্পে অতর্কিত হামলার বর্ণনা করা হয়েছে। তারা পাকিস্তানিদের ক্যাম্পে পর্যবেক্ষণ করে এবং সুযোগ বুঝে শত্রুর নিরাপত্তা ভেদ করা ছদ্মবেশে হামলা করে।

তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের শেষাংশের বক্তব্য রেইনকোট গল্পের মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের বিষয়টিকে নির্দেশ করে।

ঘ. উদ্দীপকে `রেইনকোট’ গল্পের আংশিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে মন্তব্যটি যথার্থতাG

বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযোদ্ধা হাজারো মায়ের বুক খালি হয়েছে, হাজারো বোন হারিয়েছেন তাদের ভাই। সন্তান হারা মা, ভাই হারা বোন আজও পথ চেয়ে আছেন যদি ফিরে পাওয়া যায় হারানো সেই মুখগুলোকে।

উদ্দীপকে মিলিটারি ক্যাম্প মুক্তিবাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে পাকিস্তানিদের চমকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তারা কোন ভাবেই বুঝে উঠতে পারেনা কিভাবে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের আক্রমণ করে চলে যায়। ‘রেইনকোট’ গল্পের পাকিস্তানি মিলিটারি বর্বর অত্যাচার ও নির্যাতন ফুটে উঠেছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্ক এবং তাদের নির্বিচারে হত্যা করার বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা হয়েছে। গল্পে পাকিস্তানি হানাদার  আক্রোশ ছিল বেশি শিক্ষক ও তরুনীদের প্রতি সেই বিষয়টিও প্রকাশ পেয়েছে। 

উদ্দীপকে শুধু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। আর ‘রেইনকোট’ গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী মিলিটারিদের নির্যাতন হত্যা এবং গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা আক্রমণ, ঢাকা শহরের যুদ্ধের পরিস্থিতি ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে।

Also Read:  অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর। অপরিচিতা গল্পের বোর্ড প্রশ্ন

এই দিক এই দিক বিচারে তাই বলা যায় উদ্দীপকে টিতে ‘রেইনকোট’ গল্পের আংশিক বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। 

২. মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটি ছাত্রাবাস থেকে মিলিটারিরা সাজ্জাদ কে তুলে নিয়ে যায়। অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে তারা তার পিতার সন্তান চায়। ক্ষতবিক্ষত সাজ্জাদ নীরব থাকে। মনে পড়ে বাবার শেষ উপদেশ “জীবনের চেয়ে দেশ অনেক বড়”। নিজেকে একজন দেশপ্রেমী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মনে করায় তার বুক ফুলে ওঠে।

ক. “সেই চোখ ভরা ভয় কেবল ভয়” এখানে ‘রেইনকোট’ গল্পের কোন চোখের কথা বলা হয়েছে?

খ. “ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের নতুন রূপে সে ভ্যাবাচ্যাকা খায়“ কে, কেন ভ্যাবাচ্যাকা খায়?

গ. উদ্দীপকের ‘রেইনকোট’ গল্পের কোন চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়, তুলনার যৌক্তিকতা তুলে ধরো।

ঘ. সাজ্জাদের চেতনা ‘রেইনকোট’ গল্পের মূলভাব কতখানি ধারণ করে বলে তুমি মনে করো তোমার মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।

উত্তর

ক. “সেই চোখ ভরা ভয় কেবল ভয়” এখানে ‘রেইনকোট’ গল্পের বাসের মধ্যে সন্দেহভাজন পকেটমারের চোখের কথা বলা হয়েছে।

খ. ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের নতুন রূপে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে নুরুল হুদা।  কারণ রেইনকোট পড়ে তাকে মুক্তিযোদ্ধাদের মতো দেখাচ্ছিল।

প্রিন্সিপাল সাহেব করলে প্রফেসর নুরুল হুদা কলেজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। বাইরে প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলে তার স্ত্রী তাকে রেইনকোট পড়ে যেতে বলে। সেই লিংকটি তার ভাই মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর। নুরুল হুদা ডেসিং টেবিল আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। নিজের নতুন রূপ দেখে ভ্যাবাচ্যাকা খায় কারণ তাকে মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর মতো দেখাচ্ছিল।

গ. উদ্দীপকের সাজ্জাদ ‘রেইনকোট’ গল্পের নুরুল হুদা চরিত্রের সঙ্গে তুলনীয়।

আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। এই দেশ স্বাধীন করতে বাঙালি জাতিকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। দীর্ঘ নয় মাস ব্যাপী সংগ্রাম করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।

উদ্দীপকে সাজ্জাদকে একটি ছাত্রাবাস থেকে পাকিস্তানি সেনারা তুলে নিয়ে গিয়ে অমানবিক অত্যাচার চালায়, তার মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্ধান পাওয়ার জন্য। কিন্তু সে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলেও নীরব থাকে। নিজের বাবার জন্যে গর্বে বুক ফুলে ওঠে। ‘রেইনকোট’ গল্পে ও কলেজ শিক্ষক নুরুল হুদাকে অমানবিক নির্যাতন করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে। নুরুল হুদা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একজন ভাবতে শুরু করে এবং নির্যাতন সত্বেও একটি কথাও শত্রুসেনাদের সামনে বলে না। নিজের মধ্যে এক ধরনের উষ্ণতা অনুভব করেন। উভয় চরিত্রের সাদৃশ্য এখানেই লক্ষ্য করা যায়।

ঘ. সাজ্জাদের চেতনা ‘রেইনকোট’ গল্পের মূলভাব কে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করে।

স্বাধীনতা আমাদের অহংকার। আমরা স্বাধীন দেশের গর্বিত নাগরিক। এই স্বাধীনতা বাঙালির রক্তে কেনা। স্বাধীনতা অর্জনে দেশের মানুষকে অনেক সংগ্রাম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। লক্ষ লক্ষ শহীদের বুকের রক্ত লিখতে হয়েছে বাংলাদেশের নামে।

উদ্দীপকের সাজ্জাদ একজন সত্যিকারের দেশ প্রেমিক।  তাকে পাকিস্তানি সেনারা তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করে তার মুক্তিযোদ্ধা পিতার কথা জানতে চাই।  সাজ্জাদ তাদের অত্যাচারে ক্ষত-বিক্ষত হলেও কোনো কিছু প্রকাশ করেনা। তার মনে পড়ে বাবার শেষ উপদেশ “জীবনের চেয়ে দেশ অনেক বড়।” গর্বে তার বুক ফুলে ওঠে। সাজ্জাদের এই চেতনা ‘রেইনকোট’ গল্পের মূলভাব কে সম্পূর্ণরূপে ধারণ করে কেননা গল্পের মূলভাব একই বিষয় প্রকাশ করে।

‘রেইনকোট’ গল্পে দেখা যায় পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচারে ভীতু নুরুল হুদা দমে যায়নি। মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে তার মধ্যে সঞ্চারিত হয় উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম। তার কাছে মনে হয় জীবনের চেয়ে দেশ অনেক বড়। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একজন মনে করে গর্বে তার বুক ফুলে ওঠে। সেনাদের নির্মমতা তার কাছে সে উৎপাত মনে হয়। দেশের প্রতি ভালোবাসা তাকে আরও সাহসী করে তোলে। উদ্দীপকের সাজ্জাদের চেতনা ও একই ভাব প্রকাশ করে। তাই বলা যায় সচেতন এর গল্পের মূলভাব কি সবটুকু ধারণ করে।

Also Read: সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সকল অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর PDF Download Online

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *