বায়ান্নর দিনগুলো রচনার অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর।

১. শেখ মুজিবের নাস্তা করতে যাওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থান ও কর্মপরিকল্পনা জানানো হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাস্তা করতেছেন মূল উদ্দেশ্য।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী অন্যায় ভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জেলে বন্দি করে। তাকে ঢাকা সেন্ট্রাল জেল থেকে ফরিদপুর স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তাদের জাহাজ রাতে ফরিদপুর পৌঁছালে সেই রাতে জেল কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রহণ করে না। ফলে তাদের পুলিশ ব্যারাকে থাকতে হয়। সকালে বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান সুবেদার কে প্রস্তাব করেন নাস্তা খাওয়ার জন্য। তার নাস্তা খেতে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল সেখানে সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হলে তিনি ফরিদপুর জেলে আছেন এবং অনশন ধর্মঘট করছেন এটা জানাতে পারবেন।

 

২. অনশনকারীদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল কেন?

উত্তর: শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় অনশনকারীদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমেদ রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে অনশন ধর্মঘট পালন করেছিলেন। তাঁরা ফরিদপুর জেলে বন্দী অবস্থায় দুই দিন অনশন করেন। দুদিন পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ কারণে জেল কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়।

 

৩. ফরিদপুর জেলার রওনা হতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেরি করলেন কেন?

উত্তর:  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সহযোগী মহিউদ্দিন মোহাম্মদকে ঢাকা জেলা থেকে ফরিদপুর সেন্ট্রাল জেলে পাঠানোর বিষয়টি তাঁর দলের নেতাকর্মীদের জানানোর জন্য তিনি দেরি করলেন।

তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সহযোগী মহিউদ্দিন আহমেদকে হঠাৎ গোপনীয়তার সাথে ঢাকা জেলা থেকে ফরিদপুর জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রওনা হতে দেরি করতে লাগলেন কারো নারায়ণগঞ্জ থেকে বেলা ১১টায় জাহাজে ওঠায় এড়াতে পারলে রাত ১ টায় পরবর্তী জাহাজ। এর মধ্যে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে তার ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাওয়ার খবরটি পৌঁছে দিতে পারবেন।

 

৪. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ট্যাক্সিওয়ালাকে বেশি জোরে চালাতে নিষেধ করার মূল কারণ কি?

উত্তর: পথে চেনা জানা কারো সাথে দেখা হলে নিজের অবস্থান পরিবর্তনের খবর জানাতে পারবেন এই ভেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ট্যাক্সিওয়ালাকে জোরে চালাতে নিষেধ করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়ে ছিলেন যে কোন উপায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে তার ঢাকা সেন্ট্রাল জেল থেকে ফরিদপুর জেলে যাওয়ার এবং তাদের অনশন ধর্মঘটের খবরটি পৌঁছে দিতে। ঢাকা জেল থেকে পার্ক পর্যন্ত এস সেই কাজটি তিনি করতে পারেননি এ কারণে রাস্তায় তিনি এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলো তখন থেকে বেশি জোরে চালাচ্ছিল সে কারণে তিনি কৌশল করে ট্যাক্সিওয়ালাকে বলেন বেশি জোরে চালাবেন না কারণ “বাবার কালের জীবনটা যেন রাস্তায় না যায়”

৫. নানা নির্যাতন-নিপীড়ন এমনকি মরনেও কেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুঃখ নেই?

উত্তর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় জেল জুলুম নির্যাতনের শিকার হন। তিনি মরণকে ভয় পেতেন না।

রাত একটার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী সবার কাছ থেকে বিদায় নেন। এ সময় তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন – জীবনে আর দেখা নাও হতে পারে। তাই সকল সকলে যেন তাকে ক্ষমা করে দেয়। কারণ তিনি মনে করতেন অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে জীবন গেল তাতে আপস করবেন না।

বায়ান্নর দিনগুলো রচনার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর। বায়ান্নর দিনগুলো রচনার বোর্ড প্রশ্ন

৬. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সহযোগীকে জেল কর্তৃপক্ষ কিভাবে খাওয়াচ্ছিল?

উত্তর: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সহযোগীকে জেল কর্তৃপক্ষ নাকের ভিতর জোর করে খাওয়াচ্ছিল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার স্বভাব নয় মহিউদ্দিন আহমেদ শরীর খারাপ  হওয়ায় জেল কর্তৃপক্ষ অনশন শুরু চারদিন পর নাক দিয়ে জোর করে খাওয়াতে শুরু করে। নাকের ভেতর নল ঢুকিয়ে তা পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। তারপর নলের মুখে একটা কাপের মতো লাগিয়ে দেয়। তাতে একটি ছিদ্র থাকে। সেই কাপ এর মাধ্যমে দুধের মত পাতলা করে খাবার তৈরি করে পেটের ভিতরে দেয়।

 

৭. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন কয়েদিকে দিয়ে গোপনে কেন কয়েক টুকরো কাগজ আনালেন?

উত্তর: চিঠি লেখার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন কয়েদিকে দিয়ে গোপনে কয়েক টুকরা কাগজ আনালেন।

অনশনরত অবস্থায় বেশি দুর্বল বলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিছানা থেকে ওঠার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। তার হাটে ভীষণ প্যালপিটিশন। হচ্ছিল নিঃশ্বাস ফেলতে কষ্ট হচ্ছিল, দুহাত কাঁপছিল। তখন তিনি ভাবলেন আর বেশি দিন আয়ু নেই। এমন অবস্থায় তাঁর একান্ত প্রয়োজন পিতামাতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হোসেন শহীদ সরোয়ারদি এবং মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে চিঠি লেখার জন্য একজন কয়েদি মারফত গোপনে কয়েক টুকরো কাগজ আনালেন।

 

৮. জেল থেকে মুক্তির সংবাদটি বঙ্গবন্ধু রহমান কিভাবে পেলেন? 

উত্তর: ডেপুটি জেলারের মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেল থেকে তাদের মুক্তি খবর পেলেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে উদ্দেশ্য করে ডেপুটি জেলার বললেন, “আমি পড়াশোনায় আপনার মুক্তির অর্ডার এসে গেছে। রেডিওগ্রাম এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব অফিস থেকে অর্ডার এসেছে। দুইটা অর্ডার পেয়েছি।” ডেপুটি জেলার সাহেব পড়ে শোনালেন। তিনি সেসব কথা শুনে বিশ্বাস করতে চাইলে না। তখন তার সহবন্দী মহিউদ্দিন আহমেদ অর্ডারটা দেখে তাকে নিশ্চিত করলেন যে তার মুক্তির আদেশ সত্যিই এসেছে।

 

৯. অনশনের শেষ পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমেদ এর শারীরিক অবস্থা কেমন হয়েছিল ?

উত্তর: অনশনের শেষ পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমেদ এর শারীরিক অবস্থা মারাত্মক অবনতি ঘটে।

নানা রোগে আক্রান্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শেষদিকে জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার হাত পা অবশ হয়ে আসছিল। হার্টে দুর্বলতা থাকায় তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেনঅ জেলে একজন কয়েদি ছিল যে তার হাত-পায়ে সরিষার তেল গরম করে মালিশ করতে শুরু করে। মাঝে মাঝে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। সহবন্দি মহিউদ্দিন আহমেদ এর অবস্থা ভাল ছিল না কারণ প্লুরিসিস তাকে আবার আক্রমণ করে বসে ছিল।

 

১০. মিছিল থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চারিত স্লোগান শুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খারাপ লেগেছিল কেন ?

উত্তর: সহবন্দি মহিউদ্দিন আহমেদ এর নামে স্লোগান উচ্চারিত না হওয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খারাপ লাগলো।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহিউদ্দিন আহমেদ ছিলেন সহবন্দী এবং  একসাথে অনশন ধর্মঘট পালন করেছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মতো ফরিদপুর শহরে হরতাল পালিত হয়েছিল। ছাত্র-ছাত্রীরা শোভাযাত্রা করে জেল গেটে এসে “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই” “রাজবন্দিদের মুক্তি চাই” “শেখ মুজিবের মুক্তি চাই” এমন অনেক স্লোগান হচ্ছিল শুধু তার নামে।  অথচ তার মহিউদ্দিন আহমেদ এর নামে স্লোগান ছিল না। এ কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চারিত স্লোগান শুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খারাপ লেগেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *