পদার্থ বিজ্ঞান ১ম পত্র নিউটনিয়ান বলবিদ্যা (৪র্থ অধ্যায়) অনুধাবন মূলক প্রশ্ন-উত্তর।

Table of Contents

১. নিজ অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণন হঠাৎ থেমে গেলে পৃথিবী পৃষ্ঠের g এর মান কিরূপ পরিবর্তন  হবে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: পৃথিবীর নিজ অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণনের ফলে যে কেন্দ্রবিমুখী ত্বরণ সৃষ্টি হয় তার কারণে মেরু অঞ্চল ব্যতীত পৃথিবীপৃষ্ঠের অন্যান্য স্থানের  এর মান হ্রাস পায়। এ কারণে পৃথিবীর নিজ অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণন হঠাৎ থেমে গেলে মেরু অঞ্চলে g এর মান অপরিবর্তিত থাকবে কিন্তু পৃথিবীপৃষ্ঠে  অন্যান্য স্থানের g এর মান বৃদ্ধি পাবে।

২. হাত ঘড়ির কাঁটার গতি দোলন গতি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন কোন বস্তু যদি পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোনো নির্দিষ্ট দিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় একই পথে তার বিপরীত দিকে চলে তবে তার গতি দোলন গতি। হাত ঘড়ির কাঁটা সর্বদায় একইদিক থেকে গতিশীল থেকে তার গতিপথ  নির্দিষ্ট বিন্দুকে  নির্দিষ্ট সময় পরপর একইদিক অতিক্রম করে। সুতরাং সংজ্ঞানুসারে এটি পর্যায়বৃত্ত গতি হলেও দোলন গতি নয়।

৩. ঘর্ষণ বল একটি অসংরক্ষণশীল বল ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কোন বস্তুকে একটি অমসৃণ তলের উপর দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময় ঘর্ষণ বলের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়। অমসৃণ তলটি আনুভূমিক হলে এই কৃতকাজ বস্তুর মধ্যে স্থিতি শক্তি রূপে সঞ্চিত হয় না এবং বস্তুটিও কাজ করার সামর্থ্য লাভ করে না। বস্তুটিকে তার প্রাথমিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সময় পুনরায় ঘর্ষণ বলের বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়। ফলে কৃতকাজ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না। তাই ঘর্ষণ বল অসংরক্ষণশীল বল।

৪. প্রাসের গতি দ্বিমাত্রিক হলেও একমাত্রিক হতে পারে কি? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: আনুভূমিক এরশাদের তীর্যকভাবে নিক্ষিপ্ত বস্তুকে প্রাস বলে। কোন বস্তুকে তীর্যকভাবে নিক্ষেপ করলে তা দুটি মাত্রায় দূরত্ব অতিক্রম করে অর্থাৎ বস্তুর গতি দ্বিমাত্রিক হয়। তাই প্রাসের গতি দ্বিমাত্রিক এখন বস্তুকে খাড়া উপরের দিকে নিক্ষেপ করলে বস্তুর গতি একমাত্রিক হয় কিন্তু সংজ্ঞা অনুসারে তা আর প্রাস থাকে না। অতএব প্রাসের গতি দ্বিমাত্রিক হলেও একমাত্রিক হতে পারে না।

৫. কঠিন বস্তুর আন্তঃআণবিক বলি স্থিতিস্থাপকতার কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: স্থিতিস্থাপকতা হচ্ছে বস্তুকে বিকৃত করলে তার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার ধর্ম। আন্তঃআণবিক শক্তি হচ্ছে দুটি অণুর মধ্যে পারস্পারিক আকর্ষণ। এখন একটি কঠিন বস্তু কে বিকৃত করলে বা প্রসারিত করলে অণূ সমূহের  মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। বল অপসারণ করলে আন্তঃআণবিক আকর্ষণের দরুন অণুগুলো আবার কাছে চলে আসে এবং পূর্বের অবস্থা প্রাপ্ত হয়। অতএব বলা যায় কঠিন বস্তুর আন্তঃআণবিক বলেই স্থিতিস্থাপকতার কারণ।

৬. পরিমাপের সকল যন্ত্রের পিছট ত্রুটি থাকবে কিনা ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: যেসব যন্ত্র স্ক্রু-নাট নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি সেসব যন্ত্র অপব্যবহারের ফলে এ ধরনের ত্রুটি দেখা যায়। দীর্ঘদিন ব্যবহার-অপব্যবহার এর ফলে নাটের প্যাঁচ বা স্ক্রু ক্ষয় হয়ে আলগা হয়ে যায়। ফলে স্ক্রু  উভয় দিকে একই পরিমাণ ঘূর্ণনের ফলে একই পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে না। এ ধরনের ত্রুটিকে পিছট ত্রুটি বলে। পাট নেওয়ার সময় স্ক্রুকে একই দিকে ঘুরিয়ে একটু অপেক্ষা করে পার্ট নিয়ে এ ত্রুটি পরিহার করা যায়।

সুতরাং বলতে পারি পরিমাপের সকল যন্ত্রে পিছট ত্রুটি থাকবে না। শুধুমাত্র যেসকল যন্ত্র স্ক্রু-নাট নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি সে সকল যন্ত্রের পিছট ত্রুটি থাকবে।

৭. সমান ভরের দুটি বস্তুরই স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ হলে তার আবেগ বিনিময় করে ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: আমরা জানি যে সংঘর্ষের আগে ও পরে দুটি বস্তুর আপেক্ষিক বেগ অপরিবর্তিত থাকে তাকেই স্থিতিস্থাপক সংঘর্ষ বলে। এক্ষেত্রে সংঘর্ষের পূর্বের ভরবেগ ও সংঘর্ষের পরের ভরবেগ সমান হয়। এমনকি সংঘর্ষের পূর্বে ও পরের গতিশক্তিও সমান হয়। তখন বস্তু দুটির ভর সমান হলে অবশ্যই এদের বেগ পরস্পর বিনিময় হয়। তা না হলে ভরবেগ সমান হতো না।

৮. পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের সকল অণু স্থির ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: অনুস গ্যাসের অনু সময়ের গতিশক্তি তাপমাত্রা সমানুপাতিক। তাপমাত্রা বাড়ালে গতি শক্তি বাড়বে। তাপমাত্রা কমালে গতিশক্তি কমবে। গ্যাসের গতিতত্ত্ব অনুসারে পরমশূন্য তাপমাত্রায় গতিশক্তি শূন্য। তাই পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাস অণু সমূহ পূর্ণ স্থিতাবস্থায় থাকে।

৯. অভিকর্ষ এক ধরনের মহাকর্ষ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: এ মহাবিশ্বের যেকোনো দুটি বস্তুর মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বলে। আবার পৃথিবী এবং অন্য যে কোন বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষণ তাকে অভিকর্ষ বলে। পৃথিবী এ মহাবিশ্বেরই অংশ। পৃথিবীর সাথে অন্য কোন বস্তুর আকর্ষণ বলকেও মহাকর্ষ বলা হয়। সুতরাং অভিকর্ষ এক ধরনের মহাকর্ষ।

১০. রাস্তার বাঁকের  ভিতরের প্রান্ত থেকে বাইরের প্রান্ত উঁচু হয় কেন?

উত্তর: গাড়ি চলার সময় এর উপর ক্রিয়াশীল বস্তুর অভিমুখে জড়তা গাড়িটিকে ধাক্কা দিয়ে উল্টে ফেলতে পারে। এ জড়তা প্রতিহত করার জন্য গাড়িটিকে একটি কেন্দ্রমুখী বলের সৃষ্টি করতে হয়। এজন্য গাড়িটিকে কাত হওয়া প্রয়োজন কিন্তু সমতলে গাড়ি কাত হলে বিপর্যয় ঘটবে। এ জন্য রাস্তার বাঁক এর ভীতরের প্রান্ত থেকে বাইরের প্রান্ত উঁচু রাখা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *